পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) আকাশের রং বদলেছে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের খেয়ালে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ এবার পুরোপুরি শক্তি বাড়িয়ে ফেলেছে। এর জেরে শুক্রবার ভোর থেকেই কলকাতা থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি-ঝড়ের দাপট। কোথাও রাস্তায় হাঁটু সমান জল, কোথাও আবার দমকা হাওয়ায় গাছ পড়ে পথ আটকে দিয়েছে—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা।
কোন জেলাগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
আগস্টের শেষ সপ্তাহেই ভিজে যাচ্ছে গোটা বাংলা। আলিপুর হাওয়া দফতরের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যাচ্ছে, দুই মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল বর্ষণের সম্ভবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বাতাসের বেগ ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটারে। তাই অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে মৎস্যজীবীদের। আজ ও আগামীকাল সমুদ্রে যাওয়া একেবারেই নিশিদ্ধ করেছে প্রশাসন।
কলকাতার আবহাওয়াও বেশ অস্থির। সকাল থেকে মেঘে ঢাকা ভোর, মাঝে মাঝে অঝোর বৃষ্টি, আর বিকেলের দিকে বজ্রপাত—সব মিলিয়ে নাগরিক জীবনে ছন্দপতন অব্যাহত। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১-৩২ ডিগ্রির বেশি না হলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি থেকে নিস্তার নেই।
উত্তরবঙ্গেও সতর্কবার্তা
শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলাও পড়েছে সরাসরি প্রভাবে। জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারেও আজ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে নদী-নালা ফুলে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল, তাই নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। প্রশাসন তাই আগেভাগেই সতর্কতা জারি করেছে।
আগামী দিনের পূর্বাভাস
শনিবারও খুব একটা স্বস্তির সম্ভাবনা নেই। দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর ও মুর্শিদাবাদে বজ্রসহ বৃষ্টি হবে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর ও মালদাতেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টি আর বজ্রপাত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
কী বলছেন আবহাওয়াবিদরা?
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই নিম্নচাপ সহজে দুর্বল হবে না। আগামী দু’তিন দিন ধরেই আকাশ মেঘলা থেকে বৃষ্টিভেজা থাকবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও উপকূলবর্তী এলাকায় জল জমে গ্রাম-শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা মার খেতে পারে। জলাভূমি বা খোলা আকাশের নিচে বজ্রপাতের সময়ে না থাকাই সবচেয়ে বড় বুদ্ধিমানের কাজ। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন।