হুগলির সিঙ্গুরের (Singur) জমি ঘিরে দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের অবসান ঘটল সুপ্রিম কোর্টের রায়ে। সোমবার এই লড়াইয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষে বড় জয় এনে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বহু বছরের বিতর্কিত সেই জমি এখন রাজ্যের অধীনেই থাকবে— এমনটাই জানিয়ে দিল বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, আসল জমির মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব রাজ্য সরকারেরই।
২০০৬ সালে সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে যে বিতর্কের সূত্রপাত, তাতে জড়িয়ে পড়েছিল বহু সংস্থা। টাটা গোষ্ঠীর ন্যানো প্রকল্পের জন্য এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণের সময় শান্তি সেরামিকস প্রাইভেট লিমিটেডের ২৮ বিঘা জমিও সেই পরিধিতে পড়ে। অথচ সংস্থাটি ২০০১-০২ সালেই জমি কিনে সেখানে বৈদ্যুতিক ইনসুলেটর তৈরির কারখানা চালু করেছিল।
জমি নেওয়ার সময় হুগলি জেলা প্রশাসনের তরফে ১৪.৫৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু ন্যানো প্রকল্প সিঙ্গুর থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর শান্তি সেরামিকস দাবি করে জমিটি ফেরত চায়, সঙ্গে অতিরিক্ত মাসিক ক্ষতিপূরণের দাবিও জানায়। হাইকোর্ট সেই সংস্থার জমি ফেরতের দাবি মেনে নিলেও ক্ষতিপূরণের আবেদনে সাড়া দেয়নি।
এর পরই রাজ্য সরকার বিষয়টি নিয়ে যায় সুপ্রিম কোর্টে। আর সেখানেই সোমবার রাজ্যের পক্ষেই যায় চূড়ান্ত রায়। হাইকোর্টের আগের নির্দেশ বাতিল করে শীর্ষ আদালত জানায়—সিঙ্গুরের জমি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বৈধ, এবং তা নতুন করে বিতর্কের অবকাশ রাখে না।
অন্যদিকে এই সূত্রেই রাজ্য প্রশাসনের এক কর্তা জানান, “এই রায় শুধু আইনগত জয় নয়, ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা।” এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই মামলার নিষ্পত্তিতে সিঙ্গুরের জমি নিয়ে রাজ্যের অবস্থান আরও মজবুত হল।

