শরতের পুজো দরজায় কড়া নাড়ছে, চারদিকে বর্ষার টানা ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি, আর ঠিক সেই সময়েই হাজির উচ্চ মাধ্যমিকের নতুন পরীক্ষা সিস্টেমের প্রথম অভিষেক। সেপ্টেম্বরের ৮ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে HS Exam 2025 আর সেই পরীক্ষাকেই ঘিরে এখন উত্তেজনা, উৎকণ্ঠা আর খানিকটা রোমাঞ্চ।
একদিকে পুজোর প্রস্তুতি, অন্যদিকে অঝোর ধারায় কচি পড়ুয়াদের ঘুম ভাঙছে উদ্বেগে। কারণ, এ বছরই প্রথমবার সেমিস্টার সিস্টেমে শুরু হতে যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা, তারিখ ঠিক হয়েছে ৮ই সেপ্টেম্বর। ছাত্র-ছাত্রীরা তৈরি, অথচ বৃষ্টির দাপটে চিন্তায় অভিভাবকরা আর টেনশনে ভর্তি বঙ্গবাসী।
ভিজে-ভিজে পরীক্ষার প্রস্তুতি
বর্ষার দাপটে জনজীবন থামলেও পরীক্ষা থামবে না – এটাই এবার শিক্ষা সংসদের মন্ত্র। তাই ঝুঁকি এড়াতে দারুণ সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সেন্টার সিলেকশন – জল জমবে না এমন জায়গায় বাছাই করা হয়েছে পরীক্ষা কেন্দ্র।
ব্যাকআপ সেন্টার – কোথাও যদি প্লাবন হয়, সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষাকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে অন্য কেন্দ্রে।
ত্রাণ শিবিরে পরীক্ষা – যদি কেউ বন্যার কারণে আশ্রয় শিবিরে থাকে, সেখানেই আলাদা ঘরে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
লোডশেডিং রেডি – বিদ্যুতের সমস্যায় পড়ুয়ারা আটকাবে না, রাখা হয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা।
পলিথিন ডিফেন্স – প্রশ্নপত্র থেকে উত্তরপত্র – সবই এবার পলিথিনে মোড়া, যাতে এক ফোঁটা জলও ছুঁতে না পারে।
ভাবুন তো, এবার হয়তো সত্যিই ইতিহাস এক তৈরি হবে। প্রথমবারের মতো HS পরীক্ষার খাতা লিখছে কেউ একজন ত্রাণ শিবিরে বসে!
নিউ জেনারেশন এক্সাম – স্বচ্ছতার নয়া ফর্মুলা
শুধু বর্ষা নয়, এই পরীক্ষার আরও বড় বিশেষত্ব হচ্ছে নতুন সেমিস্টার সিস্টেম। জুন মাসেই সংসদ প্রস্তাব জানিয়েছিল এই প্ল্যানের–
ওএমআর শিটের কপি বাড়ি নেওয়ার সুযোগ – তবে প্রথমেই নয়, তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা সম্পূর্ণ শেষ হলে। পড়ুয়ার নিজের উত্তরপত্রের কার্বন কপি সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে যেতে পারবে।
ফলাফল ঘোষণার আগেই যাচাই – ফলে প্রথমেই উত্তর কপি হাতে পাওয়ায় পড়ুয়ারা নিজেরাই আগে দেখে নিতে পারবে ঠিক-ভুল। অর্থাৎ, এ বার পরীক্ষা শুধু নম্বরেই নয়, স্বচ্ছতার ক্ষেত্রেও এগিয়ে এক ধাপ।
তাই সেপ্টেম্বরের বৃষ্টিভেজা সকালে স্কুল থেকে ত্রাণশিবিরের ভেতর যেখানেই হোক না কেন, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা থামছে না। পুজোর আগে সমনের মতো এই পরীক্ষাও অনিবার্য। আর শিক্ষা সংসদও জানিয়েছে – “বৃষ্টি যতই হোক, পরীক্ষা চলবেই”।