সিলিন্ডার (Cylinder) বুক করেছেন, টাকাও দিয়েছেন—তবু গ্যাস আসছে না! কারণ জানেন? আপনার রান্নাঘরের পুরনো পাইপ। হ্যাঁ, এখন এলপিজি ডেলিভারির নিয়ম এতটাই কড়া হয়েছে যে পাইপ পাঁচ বছর পুরনো হলেই গ্যাস বন্ধ। আর নতুন পাইপ কিনতেই হবে ডিলারের কাছ থেকে।
গ্রাহকের দুশ্চিন্তা
শহর হোক বা জেলা, অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন—ডেলিভারি বয় এসে বলেন, “আগে পাইপ নিন, নাহলে গ্যাস নেই।” গ্রাহকদের বক্তব্য, বাজারে বা অনলাইনে ঠিক একই মানের পাইপ একশোর মধ্যেই পাওয়া যায় অথচ ডিলারদের কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে প্রায় ১৮০ টাকায়, তার ওপর আবার জিএসটি। ফলে রান্নার গ্যাসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত খরচ, আর তার চাপ গিয়ে পড়ছে মধ্যবিত্তদের দৈনন্দিন রান্নাঘরে।
সরকারের যুক্তি – সুরক্ষা আগে
তেল সংস্থাগুলো অবশ্য বলছে, মানুষকে নিরাপদ রাখতেই এই নিয়ম। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়ে ২০১৫ সাল থেকেই ‘সেফটি হোস’ অর্থাৎ বিশেষ এক ধরনের পাইপ ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে এবং সেটি অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমেই সরবরাহ করতে হবে। সম্প্রতি সেই নিয়ম আরও শক্ত করা হয়েছে—
- প্রতি ৫ বছর অন্তর পুরনো পাইপ বদলাতে হবে,
- শুধু ডিলার অনুমোদিত কর্মী দিয়েই পাইপ পরীক্ষা করাতে হবে,
পাঁচ বছর পার হওয়া পাইপ থাকলে ডেলিভারি বন্ধ হয়ে যাবে।
দামের লড়াই ও বিতর্ক
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—নিরাপত্তার নামে কি গ্রাহকের কাঁধে অযথা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাড়তি খরচ? সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, “যদি বাজারে মানসম্মত পাইপ সস্তায় পাওয়া যায়, তবে কেন শুধু ডিলারের কাছ থেকে কিনতেই হবে?” আরও বলছেন “অবশ্যই নিরাপত্তা চাই, কিন্তু তার জন্য এত বাড়তি দাম কেন গুনতে হবে?” এখানেই জন্ম নিচ্ছে অসন্তোষ।
ডিস্ট্রিবিউটররা যুক্তি দিচ্ছেন, তাদেরও সরকারি হুঁশিয়ারি মানতেই হবে। তবে ভেতরে ভেতরে বিতর্ক এতটাই বেড়েছে যে ডিস্ট্রিবিউটরদের সংগঠনও এবার সরকারের কাছে জিএসটি কমানোর প্রস্তাব করেছে।
অন্যদিকে, গ্রাহকেরা চাইছেন বিকল্পের স্বাধীনতা—”যে দোকানেই মানসম্মত পাইপ পাওয়া যাবে, আমরা যেন সেটা ব্যবহার করতে পারি। শুধু ডিলারের কাছ থেকে কিনতে বাধ্য করানোটা অযৌক্তিক।” অনেকে অভিযোগ তুলছেন, “গ্যাস কোম্পানির ছাপ চাপিয়েই বাড়তি দাম আদায় করা হচ্ছে। এটা নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বরং একটা ব্যবসা।”
গ্যাসের টানাপোড়েন, ভবিষ্যৎ কী?
যেখানে গ্যাসের দাম প্রতি দিনে বাড়ছে, সেখানে আবার নতুন করে পাইপ কেনার বাড়তি চাপ—এই দুই মিলিয়ে অসন্তোষ আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। কিছু জেলাতে তো ডেলিভারি বন্ধ করে গ্রাহকদের একপ্রকার পাইপ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মত, নিরাপত্তার যুক্তি যথার্থ হলেও নিয়মগুলোকে আরও স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করতে হবে। বাজারে বিকল্প থাকলেও, সরকারি স্বীকৃত মান বজায় রাখা গেলে কেন কেবল ডিলারের দোকানই একমাত্র ভরসা হবে? সরাসরি বললে—এই বিতর্ক এখন শুধু “একটা পাইপ” নয়, বরং অনেক বড় প্রশ্ন তুলছে: নিরাপত্তার নামে সীমাহীন নিয়ন্ত্রণ, নাকি ভোক্তার স্বাধীনতা?