ভাবুন তো— আপনি যে ব্যাংকে (Bank) নিজের কষ্টার্জিত টাকা জমা রেখেছেন, সেখানকার কর্মীরাই যদি আপনার তথ্য সরাসরি প্রতারকের হাতে তুলে দেন, তাহলে প্রতারণা থেকে বাঁচবেন কীভাবে? একেবারেই অবিশ্বাস্য মনে হলেও, গত সপ্তাহে ঠিক এমনই ঘটনা ফাঁস করেছে রাজ্যের সাইবার ক্রাইম শাখা।
তারা গ্রেফতার করেছে একটি বেসরকারি ব্যাংকের পাঁচজন কর্মীকে, যারা নাকি প্রায় দু’বছর ধরে গোপনে নিজেদের গ্রাহকদের তথ্য পাচার করে আসছিল। লক্ষ্য ছিল একটাই — উত্তর ভারতের কুখ্যাত জামতাড়া চক্র এবং অন্যান্য প্রতারণাকারী দল ধরা।
কীভাবে চলত খেলা?
সূত্রের দাবি, ধৃতরা নিজেদের শাখার কাজের ফাঁকেই গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট, আমানত, বিমা সংক্রান্ত গোপন তথ্য তুলে নিয়ে যেত। অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার মাধ্যমে অন্য শাখারও তথ্য টেনে নেওয়া হতো। সেই তথ্য পৌঁছে যেত সাইবার ঠগেদের কাছে। তারা আবার ফোন করত গ্রাহকদের—“নতুন বিমা স্কিম আছে”, “মোটা অঙ্কের মুনাফা পাবেন” ইত্যাদি শুনিয়ে মানুষজনকে ফাঁদে ফেলত। ফলস্বরূপ, কোটি কোটি টাকা ব্যাঙ্কের খাতা থেকে হাওয়া ।
কারা ধরা পড়েছে?
গ্রেফতার হওয়া কর্মীদের মধ্যে আছেন গ্রাহক সমন্বয় অফিসার এবং সেলস ম্যানেজার— যাদের দায়িত্ব মূলত গ্রাহক পরিষেবা দেওয়া। অথচ তারাই লোভে পড়ে ‘তথ্যের ব্যবসায়ী’ হয়ে গেলেন। পুলিশের হাতে পাওয়া নথিতে জানা যাচ্ছে, কয়েকশো গ্রাহকের তথ্য গিয়েছে জালিয়াতদের কাছে, যার মধ্যে অন্তত একশো পরিবার ইতিমধ্যেই ক্ষতি স্বীকার করেছেন। এসব করে ধৃতেরা মোট আড়াই কোটি টাকা হাতিয়েছিলেন।
তদন্তের মোড়
ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ৮০টির বেশি অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, শুধু এই পাঁচজন নন, আরও কিছু কর্মী এই চক্রে যুক্ত থাকতে পারেন। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত এগোচ্ছে।
এখন প্রশ্ন, এঁদের বাইরে আর কে কে এই চক্রের অংশ? তবে গ্রাহকদের জন্য সতর্কবার্তা একটাই— অচেনা ফোনে প্রলুভনময় অফার শুনলেই সাবধান হোন। কে জানে, যিনি ফোন করেছেন, তাঁর হাতেই হয়তো আপনার নিজের ব্যাঙ্কের তথ্য পৌঁছে গিয়েছে ‘অন্তরালের গুপ্তচরদের’ মাধ্যমে!
এ ঘটনাই প্রমাণ করছে— প্রতারকরা বাইরে নয়, ভেতর থেকেও আঘাত হানতে পারে। যেখানেই আপনার টাকার নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেখান থেকেই যদি তথ্য ফাঁস হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কতটা ঝুঁকিতে আছে সহজেই বোঝা যায়।