প্রকৃতি দেখতে হলে বারবার দার্জিলিং কিংবা সিমলা ছুটতেই হবে, এমন কে বলেছে? অনেক সময় সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে অচেনা পথে। ঠিক তেমনই, কলকাতার কাছেই আছে এমন এক অনন্য পাহাড়ি উপত্যকা, যে জায়গার নাম শুনলেও অনেকেই অবাক হয়ে যান—মাইনপাট (Mainpat)।
ছত্তিশগড়ের সুরগুজা জেলায় অবস্থিত এই পাহাড়ি অঞ্চলটা আসলে বহু বাঙালির কাছেই অজানা। কিন্তু যারা একবার এখানে এসেছেন, তারা এই জায়গাকে মনে রাখেন সারাজীবন। কেন না, এটিই সেই ভূমি যাকে স্নেহভরে ডাকা হয় ‘মিনি তিব্বত’।
কেন এই নাম?
১৯৬২-র ভারত–চীন সংঘাতের সময় বহু তিব্বতি উদ্বাস্তু এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন মাইনপাটে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা এখানেই বসতি গড়ে তোলেন। তৈরি হয় বৌদ্ধমঠ, উৎসব, আর একেবারে ভিন্ন স্বাদের সংস্কৃতি। তাই আজ এখানে এলে পাহাড়ের সৌন্দর্য আর তিব্বতি পরিবেশ—দুটো একসঙ্গে উপভোগ করা যায়।
প্রাকৃতিক আকর্ষণ
চারপাশে ঘন সবুজ বন, পাহাড়ি পথ আর হঠাৎ দেখা দেওয়া ঝরনা এবং টাইগার পয়েন্ট—সব মিলিয়ে মাইনপাট হলো প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক লুকানো স্বর্গ। এখানকার ‘টাইগার পয়েন্ট’ নামটার পিছনেও আছে গল্প; স্থানীয়রা বলেন, একসময় বাঘ জল খেতে এখানে আসত! আজ বাঘ নেই, কিন্তু জায়গাটার নাটকীয় সৌন্দর্য চোখ ফেরাতে দেয় না।
কীভাবে পৌঁছাবেন?
যাঁরা কলকাতা থেকে আসবেন, তাঁদের সোজা রাস্তা হলো ট্রেনে অম্বিকাপুর পৌঁছে গাড়ি ভাড়া নেওয়া। দূরত্ব ৫০ কিমির মতো, আর পথে চলতে চলতে পাহাড়ি দৃশ্য মুগ্ধ করবেই। চাইলে দারিমা গ্রামের পথেও যাওয়া যায়, যেখানে ভোর-সন্ধের আলো পাহাড়ে খেলে তৈরি করে ছবির মতো দৃশ্য।
কেন যাবেন?
শহরের কোলাহল, ভিড় এসব থেকে মুক্ত হয়ে যদি প্রকৃতির আসল নীরবতা উপভোগ করতে চান, তবে মাইনপাট হবে একদম সঠিক গন্তব্য। এখানে না অতিরিক্ত ভিড়, না কোলাহল, শুধু পাহাড়-জঙ্গলের রূপ আর একটা পরিপূর্ণ প্রশান্তি। তাই দার্জিলিং–সিমলার ভিড় ঠেলে আর নয়। ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন একটু ভিন্ন পথে “মাইনপাট, মিনি তিব্বত”।